ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি খুদে ব্লগভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম X (Twitter)–এও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ভিডিওতে যুদ্ধের নানা ঘটনা ও দৃশ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটির কর্তৃপক্ষ। Elon Musk–এর মালিকানাধীন এক্স জানিয়েছে, যুদ্ধ সংক্রান্ত এআই–নির্ভর ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় স্থগিত করা হবে এবং প্রয়োজন হলে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও করা হতে পারে।
ভুয়া যুদ্ধ ভিডিও পোস্ট করলে বন্ধ হবে আয়ের সুযোগ
এক্সের তথ্যমতে, ইরান–ইসরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও পোস্ট করা হলে সেই অ্যাকাউন্টের ক্রিয়েটর রেভিনিউ শেয়ারিং প্রোগ্রাম ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতারা বিজ্ঞাপন আয়ের একটি অংশ পেয়ে থাকেন।
প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের ভুল তথ্য থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। যদি কোনো কনটেন্ট নির্মাতা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ান এবং তা নীতিমালা লঙ্ঘন করে, তবে শুধু আয় বন্ধই নয়—তাঁর অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হতে পারে।
যুদ্ধের সময় তথ্য যাচাইয়ে গুরুত্ব
এক্সের পণ্য বিভাগের প্রধান Nikita Bier এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো ব্যবহারকারী যদি সূত্র উল্লেখ না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি যুদ্ধসংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করেন, তাহলে তা নীতিমালা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, “সংঘাতের সময় ভুল তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই এক্স প্ল্যাটফর্মে যাচাইযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দিতে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি বাড়ছে
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত প্রযুক্তির কারণে খুব সহজেই বাস্তবসম্মত ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ঘটনার ভুয়া দৃশ্য তৈরি করা গেলে তা অনেক সময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে বাস্তব বলে মনে হয়।
এই ধরনের ভিডিও ব্যবহার করে যুদ্ধ, রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো সহজ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভুয়া ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার ঝুঁকিও তৈরি করছে।
‘Made with AI’ লেবেল চালু
ভুয়া কনটেন্ট শনাক্তে ইতিমধ্যে নতুন উদ্যোগও নিয়েছে এক্স। প্ল্যাটফর্মটি সম্প্রতি পোস্টে থাকা ছবি বা ভিডিও যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হয়, তা চিহ্নিত করতে “Made with AI” লেবেল প্রদর্শন শুরু করেছে।
এই লেবেল যুক্ত থাকলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন যে সংশ্লিষ্ট ছবি বা ভিডিও বাস্তব ফুটেজ নয়, বরং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি যেমন কনটেন্ট তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি এর অপব্যবহার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর আরও শক্তিশালী নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

