দেশের তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ ও দক্ষ করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ‘আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ’ (সিজন-৩)-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় অ্যাম্বাসেডর মিটআপ ২০২৬। চট্টগ্রাম কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার অ্যাম্বাসেডর, জেলা টিম মেম্বার এবং নেটওয়ার্ক ক্লাব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের আইসিটি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে আইসিটি অলিম্পিয়াডের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল দিক-নির্দেশনামূলক সেশন, নেটওয়ার্কিং এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিএফ শাহীন চট্রগ্রাম শাখার সহকারি শিক্ষক এসকে মো. আলী আব্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মারজান সুলতানা নুহা।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও চিফ অপারেটিং অফিসার মোঃ আবদুর রহমান নিপু। তিনি বলেন, “আমাদের একটাই লক্ষ্য, হতে হবে—আইসিটিতে দক্ষ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে প্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞানে পারদর্শী হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি আন্দোলন। তৃণমূল পর্যায় থেকে আইসিটি শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে এই প্ল্যাটফর্মটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ডিজিটাল বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় মিটআপে সিজন-৩ এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, প্রচার-প্রচারণা বিষয়ে বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়। অ্যাম্বাসেডরদের নেতৃত্ব গুণাবলি বৃদ্ধি এবং আইসিটি বিষয়ক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী টেক-কমিউনিটি তৈরির আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।
দিনব্যাপী এই মিটআপে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বাসেডর, জেলা টিম মেম্বার এবং নেটওয়ার্ক ক্লাব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অ্যাম্বাসেডরদের মাঝে সনদ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে।
সবশেষে, সমগ্র আয়োজনটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন প্রজেক্ট ম্যানেজার সাক্ষর সাহা। তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অ্যাম্বাসেডরদের নিয়ে আইসিটি অলিম্পিয়াডের ‘সিজন-৩’-এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং আগামী দিনের ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। তরুণদের হাত ধরেই প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

