ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬:
ডাচ–বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিবিসিসিআই), নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট হল-এ একটি আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের সেমিনার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারটির শিরোনাম ছিল—
“আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্মোচন: বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডস আইসিটি শিল্প সহযোগিতা”।
বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস—উভয় দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সেমিনারটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে (সরাসরি ও অনলাইন) আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩:৩০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০টা পর্যন্ত এবং নেদারল্যান্ডস সময় সকাল ১০:৩০টা থেকে দুপুর ২:৩০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
এই সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যৌথভাবে কাজ করার বাস্তব সুযোগ ও কৌশল চিহ্নিত করা। এতে দুই দেশের নীতিনির্ধারক, শিল্পনেতা, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন।
গত এক দশকে দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী, প্রতিযোগিতামূলক সেবা ব্যয় এবং সরকারি–বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের আইসিটি খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অপরদিকে, নেদারল্যান্ডস ইউরোপের অন্যতম উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা, স্মার্ট লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল ট্রেড খাতে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক বাংলাদেশি আইসিটি প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশ, নীতিমালা ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো বোঝা এবং নির্ভরযোগ্য ইউরোপীয় অংশীদার খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এই সেমিনারটি সেই ব্যবধান কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার একটি বাস্তব রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেমিনারটিতে কী-নোট উপস্থাপনা, শিল্পভিত্তিক আলোচনা, একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডস আইসিটি সহযোগিতা বিষয়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডস ও জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আইসিটি পেশাজীবীরা অংশ নেন।
এই প্রেক্ষাপটে ডাচ–বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি Mr. Shakhwat Hossain Mamun তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“বাংলাদেশের আইসিটি খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্তিশালী। সঠিক অংশীদারিত্ব, কমপ্লায়েন্স বোঝাপড়া এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে ইউরোপীয় বাজারে একটি টেকসই আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারে।”
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য Prof. Abdul Hannan Chowdhury, PhD তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক আইসিটি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক হবে।”
এদিকে NexKraft Ltd.-এর সিইও মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান বলেন,
“বাংলাদেশের আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু আউটসোর্সিং নয়, বরং উদ্ভাবন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স মেনে বৈশ্বিক বাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে—এই সহযোগিতা সেই পথকে আরও সুগম করবে।”
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে ছিল ডিবিসিসিআই-এর সভাপতি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের সচিব এবং নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য। এছাড়া ABN AMRO, Cisco Netherlands এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইসিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ, কমপ্লায়েন্স, উদ্ভাবন এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সেমিনারে একাডেমিক–ইন্ডাস্ট্রি অংশীদারিত্ব, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনের সুযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। একটি বিশেষ সংলাপ অধিবেশনে আইসিটি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যৌথ উদ্যোগ, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ইকোসিস্টেম সহায়তার বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণ করা হয়।
এই আয়োজনের স্পনসর হিসেবে ছিল NexKraft , Provati Insurance PLC, Foodi Bangladesh, Soft BD Ltd., Sabre BD Ltd., MindShaper, Jol Chaya Eco Resort এবং Edugenious। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল রূপালী বাংলাদেশ, ETV এবং Brand Story।
সেমিনার থেকে প্রত্যাশিত ফলাফলের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেদারল্যান্ডসের আইসিটি বাজার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, কমপ্লায়েন্স ও সহযোগিতা মডেল সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জন এবং আইসিটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ডিবিসিসিআই-এর ভবিষ্যৎ উদ্যোগ গ্রহণ।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় একটি নেটওয়ার্কিং ডিনারের মাধ্যমে, যা অংশগ্রহণকারী স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

