শিশুদের বিনোদন ও সৃজনশীল শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করতে মাইক্রোসফট তাদের জনপ্রিয় সফটওয়্যার পেইন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন কালারিং বুক ফিচার চালু করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কেবল লেখা নির্দেশনা (টেক্সট প্রম্পট) দিয়েই বিভিন্ন ধরনের কালারিং পেজ তৈরি করতে পারবেন।
উইন্ডোজ ইনসাইডারদের জন্য উন্মুক্ত এই ফিচারে ব্যবহারকারী কোনো দৃশ্য, বস্তু বা কল্পনাপ্রসূত ধারণা লিখলে এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাধিক ডিজাইনের কালারিং পেজ তৈরি করে দেবে। উদাহরণ হিসেবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ব্যবহারকারী যদি লেখেন—‘একটি ডোনাটের ওপর বসে থাকা তুলতুলে বিড়াল’, তাহলে সেই ধারণা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন স্টাইল ও আকারে একাধিক ছবি তৈরি হবে। পরে সেখান থেকে পছন্দের ছবিটি নির্বাচন করে সংরক্ষণ, কপি কিংবা প্রিন্ট করা যাবে।
মাইক্রোসফটের মতে, এই ফিচারটি বিশেষ করে শিশুদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষামূলক ডিজিটাল বিনোদনের নতুন একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে।
বর্তমানে এই এআই কালারিং বুক সুবিধাটি শুধু কোপাইলট প্লাস পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পেইন্ট সফটওয়্যারে যুক্ত করা হয়েছে একটি নতুন ফিল টলারেন্স স্লাইডার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা রং ভরার সময় কতটা নির্ভুলভাবে রং বসবে তা নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এতে ছবি রঙিন করার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও নিখুঁত হবে।
শুধু পেইন্ট নয়, মাইক্রোসফট তাদের নোটপ্যাড অ্যাপেও এআই সুবিধা আরও উন্নত করেছে। নোটপ্যাডে যুক্ত থাকা ‘রাইট’, ‘রিরাইট’ ও ‘সামারাইজ’ ফিচারগুলো এখন আগের তুলনায় দ্রুত কাজ করবে। জিপিটি প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যবহারকারীরা লেখার মান উন্নত করা, জটিল লেখা সংক্ষেপে উপস্থাপন করা এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে নিতে পারবেন। বিশেষত্ব হলো—পুরো ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করেই ব্যবহারকারীরা প্রিভিউয়ের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবেন।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
নতুন এসব এআই ফিচার ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে অবশ্যই মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে উইন্ডোজ ১১-এর ক্যানারি ও ডেভ চ্যানেলের উইন্ডোজ ইনসাইডারদের জন্য এই আপডেট চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব ও সামাজিকভাবে উপযোগী প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন এসব ফিচারকে তিনি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের কার্যকারিতা তুলে ধরার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পেইন্ট ও নোটপ্যাডের মতো সাধারণ সফটওয়্যারে এআই সংযুক্ত করার মাধ্যমে মাইক্রোসফট প্রমাণ করতে চাইছে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু জটিল প্রযুক্তি নয়, বরং সবার দৈনন্দিন ব্যবহারের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

