ডিজিটাল অর্থনীতিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের বৃহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ‘শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ই–লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।
গত বুধবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের সব জেলায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং সেই সুযোগ তৈরি করছে, যেখানে দেশের ভেতরে বসেই বৈশ্বিক বাজারে কাজ করা সম্ভব।”
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব–উল–আলম বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রচলিত চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, আইটি সেবা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজের মাধ্যমে তরুণদের আয়মুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ই–লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু দক্ষতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তব আয়ের সঙ্গে যুক্ত করার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি, যেখানে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীর প্রোফাইল, কাজের অগ্রগতি এবং আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এতে করে তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।”
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, যেখানে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করছেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩৫ বছর এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণটি তিন মাস মেয়াদি এবং এতে গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট ক্রিয়েশনসহ আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে। সফল প্রশিক্ষণার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার জন্যও সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে প্রায় ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে মোট ৩৬ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন জেলায় এটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী শুধু আত্মনির্ভরশীলই হবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

