প্রযুক্তি জগতে ব্যবহারকারীর নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে Google। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া প্রতারণামূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটি এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ‘ব্যাক বাটন হাইজ্যাকিং’ নামের একটি বিভ্রান্তিকর কৌশলের বিরুদ্ধে। নতুন নীতিমালার আওতায় এই পদ্ধতিকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ওয়েবসাইটগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা এ ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরও যদি কোনো ওয়েবসাইট এই কৌশল ব্যবহার করতে থাকে, তাহলে তাদের সার্চ র্যাঙ্কিং কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তিগতভাবে ‘ব্যাক বাটন হাইজ্যাকিং’ এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্বাভাবিক ‘ব্যাক’ বাটন কার্যক্রমকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাহত করে। ফলে ব্যবহারকারী যখন আগের পেজে ফিরে যেতে চান, তখন তাকে এমন একটি নতুন বা অচেনা পেজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি আগে প্রবেশ করেননি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সামনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর লিংক বা নিম্নমানের কনটেন্ট প্রদর্শন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কৌশল ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং অভিজ্ঞতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের পেজে ম্যালওয়্যার, ফিশিং লিংক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকতে পারে, যা ব্যবহারকারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে সক্ষম।
গুগল আরও জানিয়েছে, ব্রাউজারের নেভিগেশন ব্যবস্থার ওপর এ ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যবহারকারীর মৌলিক প্রত্যাশার পরিপন্থী। একজন ব্যবহারকারী যখন ‘ব্যাক’ বাটনে ক্লিক করেন, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই আগের পেজে ফেরার আশা করেন। কিন্তু এই কৌশল সেই প্রত্যাশা ভেঙে দিয়ে একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে, যা ব্যবহারকারীর আস্থা নষ্ট করে এবং পুরো ওয়েব ইকোসিস্টেমের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ওয়েবসাইট মালিক ও ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে গুগল সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, এমন কোনো স্ক্রিপ্ট, কোড বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না যা ব্যবহারকারীর ব্রাউজার হিস্টোরিতে কৃত্রিমভাবে নতুন পেজ যুক্ত করে বা আগের পেজে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। যদি ইতোমধ্যে এমন কোনো ব্যবস্থা চালু থাকে, তবে তা দ্রুত অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় গুগলের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী। এটি একদিকে যেমন ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ব্রাউজিং নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ওয়েবসাইটগুলোকেও আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হতে বাধ্য করবে।
সব মিলিয়ে, ব্যবহারকারীর আস্থা ধরে রাখতে এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে গুগলের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

