বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা সাইবার হুমকি এবং কঠোরতর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাইবার নিরাপত্তা এখন আর বিলাসিতা নয়—বরং অপরিহার্য অবকাঠামো। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারীদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না।
সম্প্রতি প্রকাশিত “Cybersecurity Trust Reality 2026” শীর্ষক এক বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাত্র ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের নিরাপত্তা সরবরাহকারীদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। বাকি ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতের সাইবার ঝুঁকিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আস্থার ঘাটতির কারণ কী?
গবেষণায় ১৭টি দেশের প্রায় ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা—
- বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে চ্যালেঞ্জ: প্রায় ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নতুন সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারীর দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়নে সমস্যায় পড়ে।
- ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ: ৫১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে, সরবরাহকারীদের প্রতি আস্থার অভাব তাদের বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলছে।
- স্বচ্ছতার ঘাটতি: অনেক প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, সেবা প্রদানকারীরা তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তি, বিশেষ করে এআই-নির্ভর সিস্টেম সম্পর্কে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখে না।
এআই ব্যবহারে নতুন বাস্তবতা
সাইবার নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। হুমকি শনাক্তকরণ, স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধ এবং ডেটা বিশ্লেষণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর সঙ্গে নতুন প্রশ্নও উঠে এসেছে—
এই এআই সিস্টেমগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য? কে দায় নেবে ভুল সিদ্ধান্তের?
এ কারণেই এখন প্রতিষ্ঠানগুলো দুইটি বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে—
- স্বচ্ছতা (Transparency): সাইবার নিরাপত্তা সমাধান কীভাবে কাজ করে, তা স্পষ্টভাবে জানানো
- জবাবদিহিতা (Accountability): কোনো ব্যর্থতা বা আক্রমণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব নির্ধারণ
ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য
গবেষণায় আরও দেখা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও অগ্রাধিকার ভিন্ন হতে পারে—
- সাইবার নিরাপত্তা প্রধানরা (CISO): প্রযুক্তির কার্যকারিতা, রিয়েল-টাইম প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অপারেশনাল দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেন
- শীর্ষ ব্যবস্থাপনা (বোর্ড/সিইও পর্যায়): নিরাপত্তা সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং তৃতীয় পক্ষের যাচাইকে বেশি প্রাধান্য দেন
এই পার্থক্য অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা খাতে টিকে থাকতে হলে সেবা প্রদানকারীদের শুধু উন্নত প্রযুক্তি দিলেই হবে না—
তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং পরিমাপযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সচেতন হয়ে সাইবার নিরাপত্তা অংশীদার নির্বাচন করতে হবে। কারণ, একটি ভুল সিদ্ধান্তই পুরো অবকাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

