প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) জন্য কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালা। ‘সিইও ওয়ার্কশপ’ শিরোনামের এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এতে সমবায়, ক্রেডিট ও আবাসন খাতে কাজ করা প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত এই কর্মশালায় মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এআই কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—তা নিয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত ‘এআই লিডারশিপ’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন প্রফেশনাল গুগল সার্টিফায়েড এআই স্পেশালিস্ট সুবীর নকরেক। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তবে এই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহারের বিষয়ে এখনও অনেকের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।
তার মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই দিয়ে তৈরি কোনো তথ্য বা কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। পাশাপাশি তথ্য যাচাই, নিজেকে প্রশ্ন করা এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সুবীর নকরেক আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এআইনির্ভর গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই দেশে বসেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে আয় করছেন, যা ফ্রিল্যান্সিং খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কর্মশালার আয়োজক দ্য সেন্ট্রাল অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ লিমিটেড (কাককো)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডমিনিক রঞ্জন পিউরিফিকেশন বলেন, প্রযুক্তির কারণে বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বকে প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, “সিইওদের এখন শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা থাকলেই হবে না, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেবার মান উন্নত করতে পারে—সে বিষয়ে তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”
কর্মশালার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী সিইওদের নিয়ে একটি এআইভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ‘সুখবর বাংলাদেশ’ বইটি তুলে দেওয়া হয়। প্রথম আলোর প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এই বইটি তুলে দেন সুবীর নকরেক। বইটি লিখেছেন লেখক রাহিতুল ইসলাম। এতে বাংলাদেশের ২৫ জন নির্বাচিত ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সংগ্রামী জীবন ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মশালা প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এটি সহায়ক হবে।

